হৃদয়ে আশার আলো

ফারজানা আহমেদ: রবিন দেখতে পায় জেনি নামের মেয়েটি অনলাইনে। তক্ষুণি ও নক করল জেনিকে।
-হাই
-হ্যালো
-কেমন আছেন?
-ভালো।আপনি কেমন আছেন?
-আপনার কথা বলুন। কেমন কাটছে দিনগুলো?
-ভালো, কিন্তু আপনার ব্যাপারটা কি বলুন তো, কোথায় উধাও হলেন?
-আমার হঠাৎ মনে হলো, অনেক দিন ট্রেনে চড়ে কোথাও ঘোরাঘুরি করা হয়নি। তাই কুয়াশা ঢাকা এক রাতে, ছোট ব্যাগ নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম। বলুন তো আমি কি কিছু ভুল করেছি?
-না, না। ভুল করবেন কেন? আসলে অনেক দিন আপনাকে অনলাইনে না দেখে চিন্তায় ছিলাম।
-হা হা হা
-হাসলেন কেন?
-আপনি কি তাহলে আমাকে মিস করছিলেন?
জেনি লজ্জা পেয়ে যায়। রবিনের কথার উত্তর দিতে পারে না। অনেকক্ষণ চুপ করে থাকে। রবিন বলে, ‘কী হলো? চুপ হয়ে গেলেন কেন? লজ্জা পেলেন?’
এভাবেই ওদের কথা এগিয়ে চলে। ধীরে ওরা আপনি থেকে তুমিতে চলে যায়। ওরা প্রচণ্ডরকম ভালোবেসে ফেলে একে অন্যকে। প্রথম প্রথম ওরা মেসেঞ্জারে লিখে কথা বলত। তারপর অডিও ও ভিডিও কলে কথা বলত। তবে অন্য প্রেমিক-প্রেমিকাদের মতো রাতদিন ওরা কথা বলত না।
জেনির কলেজ সকালে ছিল বলে বেশি রাত জাগত না। আবার রবিনের বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস থাকত বলে সারা দিন সময় পেত না। তাই ওরা সন্ধ্যার সময়টা বেছে নিত কথা বলার জন্য।
দিন দিন ওদের সম্পর্ক আরও গভীর হতে লাগল। ঠিক করল ১৪ ফেব্রুয়ারি দেখা করবে দুজন। ঢাকা থেকে রবিন বগুড়া যাবে জেনির সঙ্গে দেখা করতে। দুজনের মনেই আনন্দ। অবশেষে এত দিন পর ওদের সরাসরি দেখা হচ্ছে। কিন্তু ১৪ ফেব্রুয়ারিতে জেনি নির্দিষ্ট জায়গায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও রবিনের দেখা পেল না।
এক বছর হয়ে গেল, রবিনের আর কোনো খবর পায়নি জেনি। এমনকি ওকে আর কোনো দিন অনলাইনেও পাওয়া যায়নি। জেনি আজও জানে না, কথা দিয়েও কেন সেদিন রবিন ওর সাথে দেখা করেনি রবিন।
আবারও আসছে ১৪ ফেব্রুয়ারি। জেনির হৃদয়ে এখনো জ্বলে আছে ক্ষীণ এক আশার আলো।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *