ফেসবুকে লেখার জন্য আর কাউকে বহিষ্কার করবেন না উপাচার্য

গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) উপাচার্য খোন্দকার নাসির উদ্দিন আর কোনো শিক্ষার্থীকে ফেসবুকে লেখালেখির জন্য বহিষ্কার করবেন না। ফেসবুকে বিরুদ্ধমত প্রকাশের জেরে ফাতেমা-তুজ-জিনিয়া নামের এক শিক্ষার্থীকে বহিষ্কারের পরিপ্রেক্ষিতে গড়ে ওঠা আন্দোলনের মুখে তিনি এমন পদক্ষেপ নিয়েছেন।

উপাচার্যের অপসারণের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা গতকাল বুধবার রাত সাড়ে ১১টা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত আন্দোলন করেন। তাঁদের এক দফা দাবি—উপাচার্যের অপসারণ। তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আন্দোলনের মুখে আজ ১৪টি সিদ্ধান্ত নিয়ে রেজিস্ট্রার মো. নুরউদ্দিন আহমেদ স্বাক্ষরিত একটি আদেশ প্রকাশ করেছে।

ওই আদেশের ৪ নম্বরে বলা হয়েছে, সাধারণ শিক্ষার্থীদের বাকস্বাধীনতার নিশ্চয়তা প্রদান করা হবে এবং ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ ছাড়া বহিষ্কার করা হবে না। আর সাধারণ শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের ডেকে এনে অপমান করা হবে না। যে ফেসবুকে লেখালেখিকে কেন্দ্র করে এত কিছু, সে বিষয়ে আদেশের ১২ নম্বরে বলা হয়েছে, ফেসবুকে স্ট্যাটাস ও কমেন্টকে কেন্দ্র করে কোনো শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হবে না।

বাকি সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য—এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে পরবর্তী সময়ে কোনো শিক্ষার্থীর প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ বা বহিষ্কারের ঘটনা ঘটবে না; শিক্ষার্থীদের প্রতি ব্যক্তিগত ক্ষোভ তাঁদের একাডেমিক জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না এবং এমনটা হলে ওই শিক্ষককে আইনের আওতায় আনা হবে; ভর্তি হওয়ার ১০ বছরের মধ্যে কোনো শিক্ষার্থীকে ক্যাম্পাস থেকে বের হওয়ার নোটিশ দেওয়া হবে না; সব শিক্ষার্থীর নিরাপত্তার দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নেবে; হলে প্রতি সিটের ভাড়া ১৫০ টাকা এবং গণরুমের ভাড়া ৫০ টাকা করা; ভর্তি ফি সর্বমোট ১৪ হাজার টাকা ও সেমিস্টার ফি ২ হাজার টাকা করা এবং বিভাগ উন্নয়ন ফি বাদ দেওয়া; বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের নামে যে টাকা দেওয়া হয় তার জবাবদিহি করা হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে ফেসবুকে লেখার জেরে ১১ সেপ্টেম্বর আইন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ফাতেমা-তুজ-জিনিয়াকে সাময়িক বহিষ্কার করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উপাচার্যের বিরুদ্ধে সমালোচনার ঝড় ওঠে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের চেয়ারম্যানসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপাচার্য বরাবর জিনিয়ার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার চেয়ে একটি লিখিত আবেদন করেন। উপাচার্য তখন বহিষ্কারাদেশ তুলে নেন।

উপাচার্য খোন্দকার নাসির উদ্দিন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আমার কাছে ১৪ দফা দাবি করেছিল। আমি সাধারণ শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করে ওই দাবিগুলো মেনে নিয়েছি।’

আরও পড়তে ক্লিক করুন…

ফেসবুকে বিরুদ্ধ মত দিলেই বহিষ্কার করেন উপাচার্য




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *